২২ চরে উন্নয়নের হাহাকার, বন্ধ বিদ্যালয়, নেই চিকিৎসা ও পাকা সেতু মৌলিক অধিকারবঞ্চিত কাউনিয়ার চরাঞ্চলের মানুষ
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এসব চরের হাজারো মানুষ। নির্বাচনের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচিত হওয়ার প্রায় নয় মাস পরও বাস্তব উন্নয়নের চিত্র চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।সরেজমিনে উপজেলার চর ঢুসমারা, নাজিরদহ, পল্লীমারীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ চরেই নেই পর্যাপ্ত সড়ক যোগাযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিনোদনের ব্যবস্থা। কিছু এলাকায় অল্পসংখ্যক পাকা রাস্তা থাকলেও নদীর ওপর নেই প্রয়োজনীয় পাকা সেতু। উপজেলার ৫৩৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ২১০ কিলোমিটারই কাঁচা। ঢুসমারা চরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সাবেক প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার অভাবে শিশুরা বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও নানা সামাজিক সমস্যার শিকার হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার অভাবে পুষ্টিহীনতা বাড়ছে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় রোগীকে ভারে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।ঢুসমারা চরের তাজুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলের কৃষকেরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করলেও ন্যায্যমূল্য পান না। ব্যাংকঋণ পেতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দাদন ব্যবসার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাঁদের। পাশাপাশি কিছু এলাকায় যাত্রার নামে জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য এবং মাদকের বিস্তার যুবসমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নারী শ্রমিকেরা পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় অর্ধেক মজুরি পান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।খলিলেরঘাট এলাকার করিম মন্ডল বলেন, নির্বাচন ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের দেখা পাওয়া যায় না। খলিলেরঘাট ও মৌলভীবাজার এলাকায় নদীর ওপর পাকা সেতু এবং চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ ও সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত রয়েছে চরাঞ্চল। অন্যদিকে মৌলভীবাজার এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য আখতার হোসেন গত কয়েক মাসে কয়েকটি মসজিদে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া ছাড়া উল্লেখযোগ্য উন্নয়নকাজ করেছেন এমন কিছু তাঁদের চোখে পড়েনি।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, সরকার চরাঞ্চলের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।চরাঞ্চলের মানুষের দাবি, বিচ্ছিন্ন ও খ-িত উদ্যোগ নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক। তাঁদের প্রত্যাশা, স্বাধীনতার এত বছর পর হলেও নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। ৯৯সারওয়ার আলম মুকুলকাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
৫৯ মিনিট আগে