সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
TV CHANNEL 24

পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৩.৫০, কলি রানীর সাফল্যে গর্বিত কাউনিয়াবাসী



পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৩.৫০,   কলি রানীর সাফল্যে গর্বিত কাউনিয়াবাসী

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি : দৃঢ় মনোবল, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর আত্মবিশ্বাস থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও যে স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কলি রানী (১৮)। জন্মগতভাবে দুই হাতের আঙুল না থাকলেও থেমে থাকেনি তার শিক্ষাজীবন। হাতের পরিবর্তে ডান পা দিয়ে লিখেই ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার গদাই গ্রামে গিয়ে কথা হয় স্বপ্নজয়ী কলি রানীর সঙ্গে। জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুল না থাকায় কলম ধরার সক্ষমতা নেই তার। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে কখনো নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেয়নি সে। ডান পা দিয়ে লিখেই শুরু করে পড়াশোনা। গদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে কাউনিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সর্বশেষ কাউনিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ অর্জন করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে কলি।

কলি রানীর মা রূপালী রানী জানান, জন্ম থেকেই মেয়ের দুই হাতের আঙুল নেই। ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাকে বড় করতে হয়েছে। তবুও মেয়ের পড়াশোনার আগ্রহ দেখে কখনো হাল ছাড়েননি তিনি। সব সময় মেয়েকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, কলি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে, তখন তার বাবা মনোরঞ্জন রায় মারা যান। এরপর তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট কলি মায়ের স্নেহ, ভালোবাসা ও সাহসকে অবলম্বন করে এগিয়ে যেতে থাকে। বাবাকে হারানোর শোক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনোটিই তার স্বপ্নযাত্রা থামাতে পারেনি।

শিক্ষক হাসনা পারভীন মুক্তি জানান, জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও কলি কখনো দমে যায়নি। পারিবারিক সহযোগিতা, সহপাঠীদের আন্তরিকতা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করে নিজের প্রচেষ্টায় আজ সে এতদূর এসেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম দিকে সহপাঠীদের উপহাসের শিকার হতে হয়েছিল তাকে। তবে শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও উৎসাহে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে সহপাঠীরাও তাকে আপন করে নেয়।

পড়াশোনার পাশাপাশি কলি রানীর রয়েছে বহুমুখী প্রতিভা। ডান পা দিয়েই অনায়াসে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার পরিচালনা করতে পারে সে। শুধু তাই নয়, গানের জগতেও রয়েছে তার বিশেষ দক্ষতা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে ইতোমধ্যে একাধিক পুরস্কার ও প্রশংসা অর্জন করেছে।

কলি রানী জানায়, তার জীবনের স্বপ্ন একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়া। মানুষের সেবা করাই তার প্রধান লক্ষ্য। সে বিশ্বাস করে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই মানুষের স্বপ্নপূরণ থামিয়ে রাখতে পারে না। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায় সে।

প্রত্যাশার আলো পত্রিকার সম্পাদক সারওয়ার আলম মুকুল বলেন, পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং জিপিএ-৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া কলি রানীর অসাধারণ সাফল্য। তার এই অর্জন শুধু কাউনিয়া কিংবা রংপুরের নয়, দেশের অসংখ্য স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম বলেন, কলি রানী পা দিয়ে লিখেই এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ পেয়েছে। তার এ ফলাফলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করছি।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে চায় কলি রানী। তবে এ পথচলায় প্রয়োজন আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতা। তাই উচ্চশিক্ষা ও স্বপ্নের ক্যাম্পাসে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কলি রানী ও তার পরিবার সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সবার আশীর্বাদ এবং আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। ৯৯

সারওয়ার আলম মুকুল

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

TV CHANNEL 24

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৩.৫০, কলি রানীর সাফল্যে গর্বিত কাউনিয়াবাসী

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি : দৃঢ় মনোবল, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর আত্মবিশ্বাস থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও যে স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কলি রানী (১৮)। জন্মগতভাবে দুই হাতের আঙুল না থাকলেও থেমে থাকেনি তার শিক্ষাজীবন। হাতের পরিবর্তে ডান পা দিয়ে লিখেই ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার গদাই গ্রামে গিয়ে কথা হয় স্বপ্নজয়ী কলি রানীর সঙ্গে। জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুল না থাকায় কলম ধরার সক্ষমতা নেই তার। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে কখনো নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেয়নি সে। ডান পা দিয়ে লিখেই শুরু করে পড়াশোনা। গদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে কাউনিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সর্বশেষ কাউনিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ অর্জন করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে কলি।

কলি রানীর মা রূপালী রানী জানান, জন্ম থেকেই মেয়ের দুই হাতের আঙুল নেই। ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাকে বড় করতে হয়েছে। তবুও মেয়ের পড়াশোনার আগ্রহ দেখে কখনো হাল ছাড়েননি তিনি। সব সময় মেয়েকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, কলি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে, তখন তার বাবা মনোরঞ্জন রায় মারা যান। এরপর তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট কলি মায়ের স্নেহ, ভালোবাসা ও সাহসকে অবলম্বন করে এগিয়ে যেতে থাকে। বাবাকে হারানোর শোক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনোটিই তার স্বপ্নযাত্রা থামাতে পারেনি।

শিক্ষক হাসনা পারভীন মুক্তি জানান, জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও কলি কখনো দমে যায়নি। পারিবারিক সহযোগিতা, সহপাঠীদের আন্তরিকতা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করে নিজের প্রচেষ্টায় আজ সে এতদূর এসেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম দিকে সহপাঠীদের উপহাসের শিকার হতে হয়েছিল তাকে। তবে শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও উৎসাহে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে সহপাঠীরাও তাকে আপন করে নেয়।

পড়াশোনার পাশাপাশি কলি রানীর রয়েছে বহুমুখী প্রতিভা। ডান পা দিয়েই অনায়াসে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার পরিচালনা করতে পারে সে। শুধু তাই নয়, গানের জগতেও রয়েছে তার বিশেষ দক্ষতা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে ইতোমধ্যে একাধিক পুরস্কার ও প্রশংসা অর্জন করেছে।

কলি রানী জানায়, তার জীবনের স্বপ্ন একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়া। মানুষের সেবা করাই তার প্রধান লক্ষ্য। সে বিশ্বাস করে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই মানুষের স্বপ্নপূরণ থামিয়ে রাখতে পারে না। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায় সে।

প্রত্যাশার আলো পত্রিকার সম্পাদক সারওয়ার আলম মুকুল বলেন, পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং জিপিএ-৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া কলি রানীর অসাধারণ সাফল্য। তার এই অর্জন শুধু কাউনিয়া কিংবা রংপুরের নয়, দেশের অসংখ্য স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম বলেন, কলি রানী পা দিয়ে লিখেই এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ পেয়েছে। তার এ ফলাফলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করছি।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে চায় কলি রানী। তবে এ পথচলায় প্রয়োজন আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতা। তাই উচ্চশিক্ষা ও স্বপ্নের ক্যাম্পাসে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কলি রানী ও তার পরিবার সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সবার আশীর্বাদ এবং আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। ৯৯

সারওয়ার আলম মুকুল

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি


TV CHANNEL 24

সম্পাদক ও প্রকাশক:
তারান্নুম রিয়া মনি

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৩.৫০, কলি রানীর সাফল্যে গর্বিত কাউনিয়াবাসী
0:00 / 0:00
1x