রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
TV CHANNEL 24

সবজির বাজারে আগুন, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত



সবজির বাজারে আগুন, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত


কাউনিয়ায় বাজারে লাগামহীন সবজির দাম, বিপাকে ক্রেতারা

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়ায় সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার। আগে থেকেই মাছ, মাংস ও ডিমের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবারের ভরসা ছিল সবজি। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজার করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়াকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজিই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি কাঁচামরিচ ৩০০, রসুন ৯০, পিঁয়াজ ৬০, আদা ১৩০, করলা ৮০, কুমড়া ৬০, বেগুন ৮০, পটল ৮০, ডেরষ ৬০, কদোয়া ৬০, লাউ ৬০ টাকা পিচ, গাঁজোর ১৬০, টমেটো ১৬০, ধনিয়া পাতা ৩০০, পেঁপে ৩০, কচুরবই ৬০, আলু কাটিলাল ২৫, শিল আলু ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

তকিপলহাটের সবজি বিক্রেতা সফিকুল ইসলাম বলেন কাঁচামরিচ সহ সবজির দাম বাড়ায় বিক্রি কমেছে। অপর সবজি বিক্রেতা মোতালেব বলেন মরিচের দাম বড়লেও অন্যন্য সবজির দাম কমতে শুরুকরেছে।

পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তকিপলহাটে বাজার করতে আসা আমজাদ হোসেন বলেন, “মাছ-মাংসের বাজারে তো আগেই হাত দেওয়া যেত না। ভেবেছিলাম সবজি খেয়ে দিন পার করব। কিন্তু এখন শাক-সবজির যে দাম, তাতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এক কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকা আর করলা ৮০ টাকা হলে সাধারণ মানুষ খাবে কী? নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন।”

মাছবাজারের সবজি বিক্রেতা খলিল বলেন, “বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক বন্যা ও টানা অতিবৃষ্টির কারণে আড়তে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।”

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে সবজির উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমেছে। তবে কৃষকদের দ্রুত নতুন মৌসুমের সবজি চাষে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, “বর্ষা বা অন্য কোনো অজুহাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। অসাধু ব্যবসায়ী বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেউ যেন সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। খুব শিগগিরই তকিপলহাটসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। ৯৯

সারওয়ার আলম মুকুল

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

তারিখঃ ০১/০৮/২০২৬ইং

TV CHANNEL 24

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


সবজির বাজারে আগুন, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image


কাউনিয়ায় বাজারে লাগামহীন সবজির দাম, বিপাকে ক্রেতারা

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়ায় সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার। আগে থেকেই মাছ, মাংস ও ডিমের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবারের ভরসা ছিল সবজি। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজার করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়াকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজিই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি কাঁচামরিচ ৩০০, রসুন ৯০, পিঁয়াজ ৬০, আদা ১৩০, করলা ৮০, কুমড়া ৬০, বেগুন ৮০, পটল ৮০, ডেরষ ৬০, কদোয়া ৬০, লাউ ৬০ টাকা পিচ, গাঁজোর ১৬০, টমেটো ১৬০, ধনিয়া পাতা ৩০০, পেঁপে ৩০, কচুরবই ৬০, আলু কাটিলাল ২৫, শিল আলু ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

তকিপলহাটের সবজি বিক্রেতা সফিকুল ইসলাম বলেন কাঁচামরিচ সহ সবজির দাম বাড়ায় বিক্রি কমেছে। অপর সবজি বিক্রেতা মোতালেব বলেন মরিচের দাম বড়লেও অন্যন্য সবজির দাম কমতে শুরুকরেছে।

পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তকিপলহাটে বাজার করতে আসা আমজাদ হোসেন বলেন, “মাছ-মাংসের বাজারে তো আগেই হাত দেওয়া যেত না। ভেবেছিলাম সবজি খেয়ে দিন পার করব। কিন্তু এখন শাক-সবজির যে দাম, তাতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এক কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকা আর করলা ৮০ টাকা হলে সাধারণ মানুষ খাবে কী? নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন।”

মাছবাজারের সবজি বিক্রেতা খলিল বলেন, “বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক বন্যা ও টানা অতিবৃষ্টির কারণে আড়তে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।”

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে সবজির উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমেছে। তবে কৃষকদের দ্রুত নতুন মৌসুমের সবজি চাষে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, “বর্ষা বা অন্য কোনো অজুহাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। অসাধু ব্যবসায়ী বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেউ যেন সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। খুব শিগগিরই তকিপলহাটসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। ৯৯

সারওয়ার আলম মুকুল

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

তারিখঃ ০১/০৮/২০২৬ইং


TV CHANNEL 24

সম্পাদক ও প্রকাশক:
তারান্নুম রিয়া মনি

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সবজির বাজারে আগুন, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত
0:00 / 0:00
1x