রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
TV CHANNEL 24

শরণখোলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর



শরণখোলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর


খুলনা রেফার ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটে এলাকাবাসীর ক্ষোভ


বিশেষ প্রতিনিধি, শরণখোলা (বাগেরহাট)

২৫ জুলাই, ২০২৬

বাগেরহাটের উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)। আজ শনিবার দুপুরে তিনি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে এসে উপস্থিত হন। সকাল ১০টায় পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষ করে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে তিনি সরাসরি শরণখোলা হাসপাতালে পৌঁছান এবং হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড, স্টোর রুম এবং রান্নাঘর নিজে ঘুরে দেখেন।

মন্ত্রীর এই ঝটিকা পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও দুর্ভোগের এক বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

রান্নাঘরে মন্ত্রীর সরজমিনে তদারকি

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোজা হাসপাতালের রান্নাঘরে ঢুকে পড়েন। তিনি নিজেই রান্নার পাতিল ও হাঁড়ির ঢাকনা উল্টে রোগীদের জন্য তৈরি করা খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ সরজমিনে যাচাই করেন। রান্নাঘরের নোংরা পরিবেশ দেখে এবং নিম্নমানের খাবারের প্রমাণ পেয়ে তিনি বাবুর্চি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন এবং সাধারণ রোগীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে বলেন।

১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের সরকারি প্রতিশ্রুতি

শরণখোলা হাসপাতালের পুরনো ভবনগুলোর জরাজীর্ণ দশা ও পলেস্তারা খসে পড়ার চিত্র মন্ত্রীর নজরে আসে। এই সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি বড় ঘোষণা দিয়ে বলেন, শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ অবকাঠামো বদলে ফেলে দ্রুত এটিকে ১০১ শয্যার আধুনিক হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। গরিব ও প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

চিকিৎসক সংকট ও খুলনা রেফারের যন্ত্রণায় স্থানীয়দের ক্ষোভ

পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর সামনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে চরম ডাক্তার সংকটের কথা তুলে ধরেন। তাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল, এখানে কোনো জটিল রোগের চিকিৎসা হয় না। গাইনি, কার্ডিওলজি বা সার্জারির মতো কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায়, একটু গুরুতর রোগী আসলেই ডাক্তাররা সরাসরি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পক্ষে জরুরি অবস্থায় খুলনা যাতায়াত করা এবং চিকিৎসার বিশাল খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর হাসপাতালে কোনো সচল সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও দক্ষ চালক নেই, যার কারণে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে জেলা সদরে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই অনেকে মাঝপথে মারা যান।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উপস্থিতি

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকারদার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি।

একই সাথে স্থানীয় সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনগণ হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত হন। বিশেষ করে বিএনপির স্থানীয় ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের বর্তমান পদের দায়িত্বসহ উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৪ নম্বর সাউথখালী ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা ও শরণখোলা উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, শরণখোলা উপজেলা বিএনপির অন্যতম শীর্ষনেতা মোল্লা ইসহাক আলী এবং ৩ নম্বর রায়েন্দা ইউনিয়নের জনপ্রিয় নেতা ও শরণখোলা উপজেলা বিএনপির বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফরিদ উদ্দিন মানিক।

উপস্থিত এই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দলমত নির্বিশেষে শরণখোলার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সংকটের চিত্র তুলে ধরেন এবং ১০১ শয্যার হাসপাতাল ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

TV CHANNEL 24

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


শরণখোলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image


খুলনা রেফার ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটে এলাকাবাসীর ক্ষোভ


বিশেষ প্রতিনিধি, শরণখোলা (বাগেরহাট)

২৫ জুলাই, ২০২৬

বাগেরহাটের উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)। আজ শনিবার দুপুরে তিনি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে এসে উপস্থিত হন। সকাল ১০টায় পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষ করে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে তিনি সরাসরি শরণখোলা হাসপাতালে পৌঁছান এবং হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড, স্টোর রুম এবং রান্নাঘর নিজে ঘুরে দেখেন।

মন্ত্রীর এই ঝটিকা পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও দুর্ভোগের এক বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

রান্নাঘরে মন্ত্রীর সরজমিনে তদারকি

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোজা হাসপাতালের রান্নাঘরে ঢুকে পড়েন। তিনি নিজেই রান্নার পাতিল ও হাঁড়ির ঢাকনা উল্টে রোগীদের জন্য তৈরি করা খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ সরজমিনে যাচাই করেন। রান্নাঘরের নোংরা পরিবেশ দেখে এবং নিম্নমানের খাবারের প্রমাণ পেয়ে তিনি বাবুর্চি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন এবং সাধারণ রোগীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে বলেন।

১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের সরকারি প্রতিশ্রুতি

শরণখোলা হাসপাতালের পুরনো ভবনগুলোর জরাজীর্ণ দশা ও পলেস্তারা খসে পড়ার চিত্র মন্ত্রীর নজরে আসে। এই সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি বড় ঘোষণা দিয়ে বলেন, শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ অবকাঠামো বদলে ফেলে দ্রুত এটিকে ১০১ শয্যার আধুনিক হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। গরিব ও প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

চিকিৎসক সংকট ও খুলনা রেফারের যন্ত্রণায় স্থানীয়দের ক্ষোভ

পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর সামনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে চরম ডাক্তার সংকটের কথা তুলে ধরেন। তাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল, এখানে কোনো জটিল রোগের চিকিৎসা হয় না। গাইনি, কার্ডিওলজি বা সার্জারির মতো কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায়, একটু গুরুতর রোগী আসলেই ডাক্তাররা সরাসরি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পক্ষে জরুরি অবস্থায় খুলনা যাতায়াত করা এবং চিকিৎসার বিশাল খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর হাসপাতালে কোনো সচল সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও দক্ষ চালক নেই, যার কারণে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে জেলা সদরে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই অনেকে মাঝপথে মারা যান।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উপস্থিতি

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকারদার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি।

একই সাথে স্থানীয় সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনগণ হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত হন। বিশেষ করে বিএনপির স্থানীয় ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের বর্তমান পদের দায়িত্বসহ উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৪ নম্বর সাউথখালী ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা ও শরণখোলা উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, শরণখোলা উপজেলা বিএনপির অন্যতম শীর্ষনেতা মোল্লা ইসহাক আলী এবং ৩ নম্বর রায়েন্দা ইউনিয়নের জনপ্রিয় নেতা ও শরণখোলা উপজেলা বিএনপির বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফরিদ উদ্দিন মানিক।

উপস্থিত এই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দলমত নির্বিশেষে শরণখোলার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সংকটের চিত্র তুলে ধরেন এবং ১০১ শয্যার হাসপাতাল ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।


TV CHANNEL 24

সম্পাদক ও প্রকাশক:
তারান্নুম রিয়া মনি

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
শরণখোলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
0:00 / 0:00
1x