বিশেষ সংবাদদাতা, বাগেরহাট:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পার্শ্ববর্তী শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়ারাত হোসেন (বকুল)। কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা বা রাজনৈতিক প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ রোগীদের মতো অতর্কিতে তিনি এই ঝটিকা সফর পরিচালনা করেন। পরিদর্শন শেষে এই অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা—উভয় উপজেলার হাসপাতাল দুটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আধুনিক শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীতকরণের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনের মূল চিত্র ও মন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি:
* হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি: সাধারণ রোগীদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং চিকিৎসা সংকটের কথা বিবেচনা করে মোরেলগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকেও ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
* পরিত্যক্ত কক্ষে ওষুধের স্তূপ: হাসপাতাল দুটির পরিচ্ছন্নতা এবং ওষুধের মজুদ পরীক্ষার সময় একটি ভবনের পরিত্যক্ত স্টোর রুমে লাখ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি ওষুধের বিশাল স্তূপ অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখেন মন্ত্রী, যার মধ্যে অনেক ওষুধ ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। দেশের সাধারণ মানুষের ওষুধ না পাওয়ার সংকটের মাঝে এমন দৃশ্য দেখে তিনি চরম অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
* অনিয়ম ও অনুপস্থিতি: দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার এই আকস্মিক অভিযানে মন্ত্রী হাসপাতালের সেবার মান, খাবারের নিম্নমান এবং ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকদের উপস্থিতি সরাসরি যাচাই করেন। ডিউটি ফাঁকি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের সাথে আলোচনা করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
* কঠোর তদন্তের নির্দেশ: জনগণের অর্থের এমন অপচয় ও ওষুধের অব্যবস্থাপনা রোধে তিনি জেলা প্রশাসককে এই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। একই সাথে হাসপাতাল সংলগ্ন একটি বেসরকারি ক্লিনিকের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় বিভিন্ন অসংগতি মেলায় সেটির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:
যেহেতু এটি একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সারপ্রাইজ ভিজিট ছিল, তাই সেখানে কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সাধারণ প্রটোকল ছিল না। তবে মন্ত্রীর সাথে প্রশাসনিক তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মো. বাতেন, বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকারদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি সোমনাথ দেসহ প্রমুখ কর্মকর্তা।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
বিশেষ সংবাদদাতা, বাগেরহাট:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পার্শ্ববর্তী শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়ারাত হোসেন (বকুল)। কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা বা রাজনৈতিক প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ রোগীদের মতো অতর্কিতে তিনি এই ঝটিকা সফর পরিচালনা করেন। পরিদর্শন শেষে এই অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা—উভয় উপজেলার হাসপাতাল দুটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আধুনিক শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীতকরণের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনের মূল চিত্র ও মন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি:
* হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি: সাধারণ রোগীদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং চিকিৎসা সংকটের কথা বিবেচনা করে মোরেলগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকেও ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
* পরিত্যক্ত কক্ষে ওষুধের স্তূপ: হাসপাতাল দুটির পরিচ্ছন্নতা এবং ওষুধের মজুদ পরীক্ষার সময় একটি ভবনের পরিত্যক্ত স্টোর রুমে লাখ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি ওষুধের বিশাল স্তূপ অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখেন মন্ত্রী, যার মধ্যে অনেক ওষুধ ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। দেশের সাধারণ মানুষের ওষুধ না পাওয়ার সংকটের মাঝে এমন দৃশ্য দেখে তিনি চরম অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
* অনিয়ম ও অনুপস্থিতি: দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার এই আকস্মিক অভিযানে মন্ত্রী হাসপাতালের সেবার মান, খাবারের নিম্নমান এবং ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকদের উপস্থিতি সরাসরি যাচাই করেন। ডিউটি ফাঁকি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের সাথে আলোচনা করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
* কঠোর তদন্তের নির্দেশ: জনগণের অর্থের এমন অপচয় ও ওষুধের অব্যবস্থাপনা রোধে তিনি জেলা প্রশাসককে এই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। একই সাথে হাসপাতাল সংলগ্ন একটি বেসরকারি ক্লিনিকের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় বিভিন্ন অসংগতি মেলায় সেটির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:
যেহেতু এটি একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সারপ্রাইজ ভিজিট ছিল, তাই সেখানে কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সাধারণ প্রটোকল ছিল না। তবে মন্ত্রীর সাথে প্রশাসনিক তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মো. বাতেন, বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকারদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি সোমনাথ দেসহ প্রমুখ কর্মকর্তা।
