পরশুরাম (ফেনী) প্রতিনিধি
সবীর আহমেদ ভূঁইয়া ফোরকান
এক রাতের আগুনে পুড়ে যায় বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন, পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন আর জীবনের সব সঞ্চয়। সকালে যে দোকান থেকে সংসারের খরচ জোগানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, রাত পেরোতেই সেই দোকান পরিণত হয় ছাইয়ের স্তূপে। ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদ বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে এমন দুঃস্বপ্ন যেন বারবার ফিরে আসছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত (৯ অক্টোবর দিবাগত রাত) আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার বক্সমাহমুদ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন- নুরুল আমিন (রবিন), মাইফুল, নিজাম উদ্দিন, আবদুল কাদের (মিনার), মোস্তফা, সামছুল হক, মিন্টু, আবুল খায়ের ও এমরান হোসেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছে এই দোকানগুলো ছিল আয়-রোজগারের একমাত্র অবলম্বন। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, রাতের কোনো এক সময়ে একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পরশুরাম ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও স্থানীয়রা দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই।
বছর বছর আগুন, একই বাজারে বারবার ক্ষতি
এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বক্সমাহমুদ বাজারে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে বক্সমাহমুদ বাজারের গোলাম আজম মার্কেটে আগুন লেগে বীজ, চা ও মুদি দোকানসহ ৮টি দোকান পুড়ে যায়।
তারও আগে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাজারের মামুন ও জসিম পাটোয়ারী মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ওষুধ, মুদিখানা, ফার্নিচার ও স্বর্ণের দোকানসহ অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
তিনটি বছরে তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ড প্রতিবারই নিঃস্ব হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানের সঙ্গে পুড়েছে তাঁদের পুঁজি, শ্রম আর ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অনেকের কাছে দোকানই পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা এবং সচেতনতার অভাবে বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা ও বাজারে স্থায়ী ফায়ার সেফটি ব্যবস্থার দাবি জানি। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউন এনও অতনু বড়ুয়া। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন খোঁজখবর নেন এবং প্রশাসনের আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
পরশুরাম (ফেনী) প্রতিনিধি
সবীর আহমেদ ভূঁইয়া ফোরকান
এক রাতের আগুনে পুড়ে যায় বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন, পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন আর জীবনের সব সঞ্চয়। সকালে যে দোকান থেকে সংসারের খরচ জোগানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, রাত পেরোতেই সেই দোকান পরিণত হয় ছাইয়ের স্তূপে। ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদ বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে এমন দুঃস্বপ্ন যেন বারবার ফিরে আসছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত (৯ অক্টোবর দিবাগত রাত) আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার বক্সমাহমুদ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন- নুরুল আমিন (রবিন), মাইফুল, নিজাম উদ্দিন, আবদুল কাদের (মিনার), মোস্তফা, সামছুল হক, মিন্টু, আবুল খায়ের ও এমরান হোসেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছে এই দোকানগুলো ছিল আয়-রোজগারের একমাত্র অবলম্বন। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, রাতের কোনো এক সময়ে একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পরশুরাম ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও স্থানীয়রা দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই।
বছর বছর আগুন, একই বাজারে বারবার ক্ষতি
এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বক্সমাহমুদ বাজারে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে বক্সমাহমুদ বাজারের গোলাম আজম মার্কেটে আগুন লেগে বীজ, চা ও মুদি দোকানসহ ৮টি দোকান পুড়ে যায়।
তারও আগে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাজারের মামুন ও জসিম পাটোয়ারী মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ওষুধ, মুদিখানা, ফার্নিচার ও স্বর্ণের দোকানসহ অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
তিনটি বছরে তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ড প্রতিবারই নিঃস্ব হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানের সঙ্গে পুড়েছে তাঁদের পুঁজি, শ্রম আর ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অনেকের কাছে দোকানই পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা এবং সচেতনতার অভাবে বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা ও বাজারে স্থায়ী ফায়ার সেফটি ব্যবস্থার দাবি জানি। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউন এনও অতনু বড়ুয়া। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন খোঁজখবর নেন এবং প্রশাসনের আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে।
