কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের গাজীপুর জেলা শাখার নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে জেলা যুবদলের সভাপতি পদে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. তপন খানকে দেখতে চান অধিকাংশ তৃণমূল নেতাকর্মী। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তপন খানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক। এর আগে গাজীপুর জেলা যুবদলের সহসভাপতি, কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমবায় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি কালিয়াকৈর উপজেলা ছাত্রদলের (অভিভক্ত) সাবেক সহসভাপতি এবং শ্রীফলতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুবদলের নেতা হিসেবে তপন খান সক্রিয় ছিলেন। এসব কর্মসূচিতে তিনি কালিয়াকৈর থেকে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অংশ নেন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলেও তাঁরা জানান।
২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে। সমাবেশের স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার পর শেষ পর্যন্ত সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সমাবেশে তপন খান কালিয়াকৈর থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে অংশ নেন। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতির মধ্যেও তিনি নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে ঢাকায় নিয়ে যান বলে তাঁরা জানান।
এরপর বিএনপির বিভিন্ন বিভাগীয় গণসমাবেশ ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতেও তপন খান কালিয়াকৈর থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে অংশ নেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান। তাঁদের ভাষ্য, এসব কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি ও নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশেও তপন খান কালিয়াকৈর থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে অংশ নেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান। ওই দিন বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং একপর্যায়ে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ওই কর্মসূচিতেও তপন খান নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে ছিলেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত অংশ নিয়েছেন এবং কালিয়াকৈর থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে তপন খান মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুর জেলা যুবদলের নেতৃত্বে এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে, যাঁর মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যিনি নিয়মিতভাবে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাঁদের মতে, যুবদলের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তপন খানের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা জেলা পর্যায়ে কাজে লাগতে পারে।
কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর যুবদলের অধিকাংশ নেতাকর্মী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কারণে তপন খান মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। তাঁদের প্রত্যাশা, জেলা যুবদলের নেতৃত্ব নির্ধারণের সময় তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, কর্মসূচিতে সক্রিয়তা ও মাঠপর্যায়ের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তবে গাজীপুর জেলা যুবদলের সভাপতি পদে তপন খানকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জেলা যুবদলের নেতৃত্ব নির্ধারণে কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
এ বিষয়ে মো. তপন খান বলেন, “আমি দলের একজন কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছি। দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি। নেতৃত্বের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ভবিষ্যতে দল আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, গাজীপুর জেলা যুবদলের নেতৃত্ব পুনর্গঠনের সময় তপন খানের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির আন্দোলন-কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের গাজীপুর জেলা শাখার নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে জেলা যুবদলের সভাপতি পদে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. তপন খানকে দেখতে চান অধিকাংশ তৃণমূল নেতাকর্মী। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তপন খানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক। এর আগে গাজীপুর জেলা যুবদলের সহসভাপতি, কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমবায় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি কালিয়াকৈর উপজেলা ছাত্রদলের (অভিভক্ত) সাবেক সহসভাপতি এবং শ্রীফলতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুবদলের নেতা হিসেবে তপন খান সক্রিয় ছিলেন। এসব কর্মসূচিতে তিনি কালিয়াকৈর থেকে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অংশ নেন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলেও তাঁরা জানান।
২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে। সমাবেশের স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার পর শেষ পর্যন্ত সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সমাবেশে তপন খান কালিয়াকৈর থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে অংশ নেন। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতির মধ্যেও তিনি নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে ঢাকায় নিয়ে যান বলে তাঁরা জানান।
এরপর বিএনপির বিভিন্ন বিভাগীয় গণসমাবেশ ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতেও তপন খান কালিয়াকৈর থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে অংশ নেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান। তাঁদের ভাষ্য, এসব কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি ও নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশেও তপন খান কালিয়াকৈর থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে অংশ নেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান। ওই দিন বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং একপর্যায়ে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ওই কর্মসূচিতেও তপন খান নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে ছিলেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত অংশ নিয়েছেন এবং কালিয়াকৈর থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে তপন খান মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুর জেলা যুবদলের নেতৃত্বে এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে, যাঁর মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যিনি নিয়মিতভাবে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাঁদের মতে, যুবদলের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তপন খানের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা জেলা পর্যায়ে কাজে লাগতে পারে।
কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর যুবদলের অধিকাংশ নেতাকর্মী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কারণে তপন খান মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। তাঁদের প্রত্যাশা, জেলা যুবদলের নেতৃত্ব নির্ধারণের সময় তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, কর্মসূচিতে সক্রিয়তা ও মাঠপর্যায়ের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তবে গাজীপুর জেলা যুবদলের সভাপতি পদে তপন খানকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জেলা যুবদলের নেতৃত্ব নির্ধারণে কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
এ বিষয়ে মো. তপন খান বলেন, “আমি দলের একজন কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছি। দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি। নেতৃত্বের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ভবিষ্যতে দল আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, গাজীপুর জেলা যুবদলের নেতৃত্ব পুনর্গঠনের সময় তপন খানের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির আন্দোলন-কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
