সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ “কলা গেড়ে না কেটে পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত” প্রবাদটি যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে রংপুরের কাউনিয়ায়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন শতাধিক কৃষক। চলতি মৌসুমে কলার বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।
উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্য ফসল ভালো না হওয়ায় কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে কলা চাষ শুরু করেন। লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে অনেক কৃষক ধানসহ অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে কলা চাষে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে সাগর কলার আবাদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
সরেজমিনে উপজেলার কুর্শা ও বালাপাড়া ইউনিয়নের শিবু কুঠিরপাড়, হলদিবাড়ী, খোপাতী, শিবু লিচু বাগান, পূর্বচান্দ ঘাট, হরিচরণ লস্কর, প্রাণনাথচর ও চর নাজিরদহ এলাকায় বিস্তীর্ণ জমিতে কলার বাগান দেখা গেছে। এর মধ্যে শিবু কুঠিরপাড় ও খোপাতী এলাকায় সবচেয়ে বেশি কলার আবাদ হওয়ায় স্থানীয়রা এলাকাগুলোকে ‘কলা গ্রাম’ নামেও চেনেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে কাউনিয়ায় ৭০ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ মেট্রিক টন। সে হিসাবে মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন।
খোপাতী গ্রামের কৃষক আবেদ আলী জানান, এক একর জমিতে ধান চাষে খরচ হয় প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা। বিপরীতে কলা চাষে খরচ পড়ে ৩৫-৪০ হাজার টাকা এবং কলা বিক্রি করে গড়ে ৭০-৮০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। বর্তমানে ১০০টি কলাগাছ ৩৬-৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খোপাতী গ্রামের আর এক কৃষক শহীদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে কলার বাম্পার ফলন হয়েছে, সেই সাথে চাষিরা দামও পাচ্ছে ভাল। কাউনিয়ায় উৎপাদিত কলা ঢাকসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রফতানি হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, কলা বাগানে কুমড়া, আদা, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদসহ বিভিন্ন সাথী ফসল চাষ করে অতিরিক্ত আয় করা যায়। রমজান মাসে কলার চাহিদা বাড়ায় এ সময় ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন জানান, কলা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এদিকে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষকদের রোগবালাইসহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ৯৯
সারওয়ার আলম মুকুল
কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ “কলা গেড়ে না কেটে পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত” প্রবাদটি যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে রংপুরের কাউনিয়ায়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন শতাধিক কৃষক। চলতি মৌসুমে কলার বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।
উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্য ফসল ভালো না হওয়ায় কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে কলা চাষ শুরু করেন। লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে অনেক কৃষক ধানসহ অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে কলা চাষে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে সাগর কলার আবাদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
সরেজমিনে উপজেলার কুর্শা ও বালাপাড়া ইউনিয়নের শিবু কুঠিরপাড়, হলদিবাড়ী, খোপাতী, শিবু লিচু বাগান, পূর্বচান্দ ঘাট, হরিচরণ লস্কর, প্রাণনাথচর ও চর নাজিরদহ এলাকায় বিস্তীর্ণ জমিতে কলার বাগান দেখা গেছে। এর মধ্যে শিবু কুঠিরপাড় ও খোপাতী এলাকায় সবচেয়ে বেশি কলার আবাদ হওয়ায় স্থানীয়রা এলাকাগুলোকে ‘কলা গ্রাম’ নামেও চেনেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে কাউনিয়ায় ৭০ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ মেট্রিক টন। সে হিসাবে মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন।
খোপাতী গ্রামের কৃষক আবেদ আলী জানান, এক একর জমিতে ধান চাষে খরচ হয় প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা। বিপরীতে কলা চাষে খরচ পড়ে ৩৫-৪০ হাজার টাকা এবং কলা বিক্রি করে গড়ে ৭০-৮০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। বর্তমানে ১০০টি কলাগাছ ৩৬-৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খোপাতী গ্রামের আর এক কৃষক শহীদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে কলার বাম্পার ফলন হয়েছে, সেই সাথে চাষিরা দামও পাচ্ছে ভাল। কাউনিয়ায় উৎপাদিত কলা ঢাকসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রফতানি হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, কলা বাগানে কুমড়া, আদা, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদসহ বিভিন্ন সাথী ফসল চাষ করে অতিরিক্ত আয় করা যায়। রমজান মাসে কলার চাহিদা বাড়ায় এ সময় ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন জানান, কলা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এদিকে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষকদের রোগবালাইসহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ৯৯
সারওয়ার আলম মুকুল
কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
