বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও একটি সংগঠিত মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় কলেজ ছাত্র ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মুসা। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের দাবি অনুসারে তার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম। প্রকাশিত তথ্য ও মুসার ভাষ্য অনুযায়ী, শীর্ষ মাদক কারবারি ইলিয়াসকে ধরিয়ে দেওয়ার পর একটি মহল মুসার উপর ক্ষুব্ধ হয়। এরপর অভিযোগ উঠেছে, ওসি রোকেয়া খানম তাকে মাদক সরবরাহের বেআইনি প্রস্তাব দেন। তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। মুসা দাবি করেন তিনি উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে ওই কথোপকথনের অডিও-ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করেন এবং তা পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের কাছে জমা দেন। এই ঘটনার পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে প্রমাণ ছাড়াই মুসাকে "মাদক ব্যবসায়ী" বলে প্রচার করেছেন বলেও পত্রিকায় অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুসা দৃঢ়তার সাথে বলেন, "আমি কোনো অপরাধের সাথে যুক্ত নই। NSI, DB সহ প্রশাসনের সকল সংস্থা আমার সম্পর্কে জানে। আমার চরিত্র সম্পর্কে এলাকায় খোঁজ নিলেই জানা যাবে। অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দিন।" যেহেতু এটি পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে একটি পোস্টমর্টেম অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ, তাই এখন পর্যন্ত তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কাউকে "দোষী" বা "অপরাধী" উপাধি দেওয়া সমীচীন নয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত আইন প্রযোজ্য হতে পারে। একজন আইন রক্ষাকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নাগরিককে মাদক সরবরাহে বাধ্য করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধার লঙ্ঘন। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত সহ সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। একইভাবে কাউকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ২১ ধারা অনুযায়ী ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আর প্রমাণ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে কাউকে "মাদক ব্যবসায়ী" বলে প্রচার করলে তা দণ্ডবিধির ৫০ ধারা মানহানি এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় পড়বে। এর শাস্তি ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড। অন্যদিকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে যুদ্ধ করে যাওয়া এবং হুমকির মুখেও তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য এলাকার সচেতন মহল শফিকুল ইসলাম মুসাকে "মহাবীর ও দেশ গড়ার কারিগর" উপাধিতে ভূষিত করেছেন। তবে শেষ কথা আইনের। হুজুগে মানবন্ধন বা ফেসবুকের বক্তব্য নয়, আদালত ও তদন্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। সরকারের গোয়েন্দা নথি ও ডিজিটাল আর্কাইভে সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে। তাই শরণখোলাবাসীর দাবি, অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে মুসার জমা দেওয়া আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হোক। অপরাধী যেই হোক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাক, আর নিরপরাধ যেই হোক তার সম্মান ফিরে পাক। *দাবি পরিত্যাগ*: এই প্রতিবেদনটি এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত একটি "পোস্টমর্টেম অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ"। এখানে উল্লিখিত সকল অভিযোগ তদন্তাধীন। আইনের চোখে কেউ অপরাধী নন যতক্ষণ না আদালতে প্রমাণিত হয়।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও একটি সংগঠিত মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় কলেজ ছাত্র ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মুসা। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের দাবি অনুসারে তার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম। প্রকাশিত তথ্য ও মুসার ভাষ্য অনুযায়ী, শীর্ষ মাদক কারবারি ইলিয়াসকে ধরিয়ে দেওয়ার পর একটি মহল মুসার উপর ক্ষুব্ধ হয়। এরপর অভিযোগ উঠেছে, ওসি রোকেয়া খানম তাকে মাদক সরবরাহের বেআইনি প্রস্তাব দেন। তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। মুসা দাবি করেন তিনি উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে ওই কথোপকথনের অডিও-ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করেন এবং তা পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের কাছে জমা দেন। এই ঘটনার পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে প্রমাণ ছাড়াই মুসাকে "মাদক ব্যবসায়ী" বলে প্রচার করেছেন বলেও পত্রিকায় অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুসা দৃঢ়তার সাথে বলেন, "আমি কোনো অপরাধের সাথে যুক্ত নই। NSI, DB সহ প্রশাসনের সকল সংস্থা আমার সম্পর্কে জানে। আমার চরিত্র সম্পর্কে এলাকায় খোঁজ নিলেই জানা যাবে। অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দিন।" যেহেতু এটি পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে একটি পোস্টমর্টেম অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ, তাই এখন পর্যন্ত তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কাউকে "দোষী" বা "অপরাধী" উপাধি দেওয়া সমীচীন নয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত আইন প্রযোজ্য হতে পারে। একজন আইন রক্ষাকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নাগরিককে মাদক সরবরাহে বাধ্য করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধার লঙ্ঘন। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত সহ সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। একইভাবে কাউকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ২১ ধারা অনুযায়ী ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আর প্রমাণ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে কাউকে "মাদক ব্যবসায়ী" বলে প্রচার করলে তা দণ্ডবিধির ৫০ ধারা মানহানি এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় পড়বে। এর শাস্তি ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড। অন্যদিকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে যুদ্ধ করে যাওয়া এবং হুমকির মুখেও তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য এলাকার সচেতন মহল শফিকুল ইসলাম মুসাকে "মহাবীর ও দেশ গড়ার কারিগর" উপাধিতে ভূষিত করেছেন। তবে শেষ কথা আইনের। হুজুগে মানবন্ধন বা ফেসবুকের বক্তব্য নয়, আদালত ও তদন্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। সরকারের গোয়েন্দা নথি ও ডিজিটাল আর্কাইভে সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে। তাই শরণখোলাবাসীর দাবি, অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে মুসার জমা দেওয়া আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হোক। অপরাধী যেই হোক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাক, আর নিরপরাধ যেই হোক তার সম্মান ফিরে পাক। *দাবি পরিত্যাগ*: এই প্রতিবেদনটি এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত একটি "পোস্টমর্টেম অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ"। এখানে উল্লিখিত সকল অভিযোগ তদন্তাধীন। আইনের চোখে কেউ অপরাধী নন যতক্ষণ না আদালতে প্রমাণিত হয়।
