সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
TV CHANNEL 24

আইনি গ্যাঁড়াকলে শরণখোলার নির্বাচনী হাওয়া: পদত্যাগ ছাড়া দক্ষিণ রাজাপুর মাদ্রাসার সহ-সুপার ও জামায়াত নেতা মোস্তফা আমিনের চেয়ারম্যান পদে লড়ার সুযোগ নেই



আইনি গ্যাঁড়াকলে শরণখোলার নির্বাচনী হাওয়া: পদত্যাগ ছাড়া দক্ষিণ রাজাপুর মাদ্রাসার সহ-সুপার ও জামায়াত নেতা মোস্তফা আমিনের চেয়ারম্যান পদে লড়ার সুযোগ নেই


বিশেষ কলামিস্ট, সাংবাদিক ও মানবাধিকার বিশ্লেষক:

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগাম নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শরণখোলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারি) মাওলানা মোস্তফা আমিন এর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন স্বঘোষিত অনলাইন ভিডিও চ্যানেলে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জামায়াতের দলীয় সমর্থন নিয়ে ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তাঁর এই আগাম লড়াইয়ের মাঠ প্রস্তুতের খবর এখন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার তুঙ্গে। 


তবে একজন মানবাধিকার কর্মী ও কলামিস্ট হিসেবে যখন আমরা দেশের প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক বিধিমালার কঠোর ধারাগুলো বিশ্লেষণ করি, তখন একটি বিশাল আইনি প্রাচীর সামনে চলে আসে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ কঠিন সংস্কারের কারণে জামায়াত নেতা মোস্তফা আমিনের এই আগাম প্রচারণা চরম আইনি ঝুঁকিতে পড়েছে। চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা বা পদত্যাগ না করে সরাসরি ব্যালট পেপারে নাম তোলার বা প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ তাঁর নেই।


নির্বাচন কমিশনের নতুন আইনি দেওয়াল: তিনি কেন সরাসরি অযোগ্য?


বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের ১২তম কমিশনের সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধিমালায় বড় ধরনের সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন সংশোধিত আইন অনুযায়ী কোনো এমপিওভুক্ত (MPO) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না。 


মাওলানা মোস্তফা আমিন যেহেতু দক্ষিণ রাজাপুর দাখিল মাদ্রাসার একজন নিয়মিত সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট (সহ-সুপার) এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত (MPO) সুবিধাভোগী শিক্ষক, তাই বর্তমান আইন অনুযায়ী পদে বহাল থেকে নির্বাচন করার তাঁর কোনো সাংবিধানিক বা আইনি এক্তিয়ার নেই। বাধ্যতামূলক পদত্যাগই প্রথম শর্ত


তিনি জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা বা ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নে জনপ্রিয় প্রার্থী হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। মোস্তফা আমিন যদি সত্যিকার অর্থেই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তবে নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই তাঁকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে সহ-সুপার পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে তিনি আইনিভাবে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য।


 দ্বৈত আর্থিক সুবিধা ও নৈতিক সুশাসন


পদত্যাগ না করে পদে বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচন করলে আইনি বাছাই প্রক্রিয়াতেই (Scrutiny) তাঁর মনোনয়নপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। একজন নাগরিক একই সাথে রাষ্ট্র বা সরকারের দুটি লাভজনক খাত (যেমন: মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত বেতন এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি সম্মানী ও ভাতা) কোনোভাবেই ভোগ করতে পারেন না। সুশাসন ও মানবাধিকারের প্রধান শর্তই হলো আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং দ্বৈত সুবিধা গ্রহণের এই অনৈতিক সুযোগ আইনগতভাবেই নিষিদ্ধ।  অনলাইন ও ভিডিও প্রচারণায় আইনি অসারতা


বর্তমানে ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নে নিজস্ব উদ্যোগে বা অনুসারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন লোকাল অনলাইন ভিডিও চ্যানেল তৈরি করিয়ে যে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা কেবলই সাময়িক রাজনৈতিক চমক। চাকরি না ছেড়ে এই ধরনের প্রচারণা সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। কারণ, আইন অনুযায়ী চাকরি থেকে ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি একজন সাধারণ বৈধ প্রার্থী হিসেবেও গণ্য হতে পারেন না।


সচেতন নাগরিক ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান


একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুশাসিত সমাজ বিনির্মাণ করা আমাদের নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার। ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নের সচেতন ভোটার ও জনসাধারণের উদ্দেশ্যে আমাদের স্পষ্ট বার্তা—কেবল ফেসবুক বা চটকদার অনলাইন ভিডিওর প্রচারণা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। দেশের প্রচলিত আইন সবার জন্য সমান। দক্ষিণ রাজাপুর মাদ্রাসার সহ-সুপার ও উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা মোস্তফা আমিন যতক্ষণ না তাঁর এমপিওভুক্ত সরকারি চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনী আইনে তিনি একজন "অযোগ্য" ব্যক্তি। সুশাসনের স্বার্থে এই সঠিক তথ্যটি সবার জানা এবং প্রচার করা আবশ্যক।


 তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সর্বশেষ বিধিমালা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন।

TV CHANNEL 24

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


আইনি গ্যাঁড়াকলে শরণখোলার নির্বাচনী হাওয়া: পদত্যাগ ছাড়া দক্ষিণ রাজাপুর মাদ্রাসার সহ-সুপার ও জামায়াত নেতা মোস্তফা আমিনের চেয়ারম্যান পদে লড়ার সুযোগ নেই

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image


বিশেষ কলামিস্ট, সাংবাদিক ও মানবাধিকার বিশ্লেষক:

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগাম নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শরণখোলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারি) মাওলানা মোস্তফা আমিন এর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন স্বঘোষিত অনলাইন ভিডিও চ্যানেলে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জামায়াতের দলীয় সমর্থন নিয়ে ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তাঁর এই আগাম লড়াইয়ের মাঠ প্রস্তুতের খবর এখন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার তুঙ্গে। 


তবে একজন মানবাধিকার কর্মী ও কলামিস্ট হিসেবে যখন আমরা দেশের প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক বিধিমালার কঠোর ধারাগুলো বিশ্লেষণ করি, তখন একটি বিশাল আইনি প্রাচীর সামনে চলে আসে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ কঠিন সংস্কারের কারণে জামায়াত নেতা মোস্তফা আমিনের এই আগাম প্রচারণা চরম আইনি ঝুঁকিতে পড়েছে। চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা বা পদত্যাগ না করে সরাসরি ব্যালট পেপারে নাম তোলার বা প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ তাঁর নেই।


নির্বাচন কমিশনের নতুন আইনি দেওয়াল: তিনি কেন সরাসরি অযোগ্য?


বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের ১২তম কমিশনের সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধিমালায় বড় ধরনের সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন সংশোধিত আইন অনুযায়ী কোনো এমপিওভুক্ত (MPO) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না。 


মাওলানা মোস্তফা আমিন যেহেতু দক্ষিণ রাজাপুর দাখিল মাদ্রাসার একজন নিয়মিত সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট (সহ-সুপার) এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত (MPO) সুবিধাভোগী শিক্ষক, তাই বর্তমান আইন অনুযায়ী পদে বহাল থেকে নির্বাচন করার তাঁর কোনো সাংবিধানিক বা আইনি এক্তিয়ার নেই। বাধ্যতামূলক পদত্যাগই প্রথম শর্ত


তিনি জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা বা ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নে জনপ্রিয় প্রার্থী হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। মোস্তফা আমিন যদি সত্যিকার অর্থেই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তবে নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই তাঁকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে সহ-সুপার পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে তিনি আইনিভাবে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য।


 দ্বৈত আর্থিক সুবিধা ও নৈতিক সুশাসন


পদত্যাগ না করে পদে বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচন করলে আইনি বাছাই প্রক্রিয়াতেই (Scrutiny) তাঁর মনোনয়নপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। একজন নাগরিক একই সাথে রাষ্ট্র বা সরকারের দুটি লাভজনক খাত (যেমন: মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত বেতন এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি সম্মানী ও ভাতা) কোনোভাবেই ভোগ করতে পারেন না। সুশাসন ও মানবাধিকারের প্রধান শর্তই হলো আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং দ্বৈত সুবিধা গ্রহণের এই অনৈতিক সুযোগ আইনগতভাবেই নিষিদ্ধ।  অনলাইন ও ভিডিও প্রচারণায় আইনি অসারতা


বর্তমানে ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নে নিজস্ব উদ্যোগে বা অনুসারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন লোকাল অনলাইন ভিডিও চ্যানেল তৈরি করিয়ে যে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা কেবলই সাময়িক রাজনৈতিক চমক। চাকরি না ছেড়ে এই ধরনের প্রচারণা সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। কারণ, আইন অনুযায়ী চাকরি থেকে ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি একজন সাধারণ বৈধ প্রার্থী হিসেবেও গণ্য হতে পারেন না।


সচেতন নাগরিক ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান


একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুশাসিত সমাজ বিনির্মাণ করা আমাদের নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার। ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নের সচেতন ভোটার ও জনসাধারণের উদ্দেশ্যে আমাদের স্পষ্ট বার্তা—কেবল ফেসবুক বা চটকদার অনলাইন ভিডিওর প্রচারণা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। দেশের প্রচলিত আইন সবার জন্য সমান। দক্ষিণ রাজাপুর মাদ্রাসার সহ-সুপার ও উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা মোস্তফা আমিন যতক্ষণ না তাঁর এমপিওভুক্ত সরকারি চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনী আইনে তিনি একজন "অযোগ্য" ব্যক্তি। সুশাসনের স্বার্থে এই সঠিক তথ্যটি সবার জানা এবং প্রচার করা আবশ্যক।


 তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সর্বশেষ বিধিমালা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন।


TV CHANNEL 24

সম্পাদক ও প্রকাশক:
তারান্নুম রিয়া মনি

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
আইনি গ্যাঁড়াকলে শরণখোলার নির্বাচনী হাওয়া: পদত্যাগ ছাড়া দক্ষিণ রাজাপুর মাদ্রাসার সহ-সুপার ও জামায়াত নেতা মোস্তফা আমিনের চেয়ারম্যান পদে লড়ার সুযোগ নেই
0:00 / 0:00
1x