সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
TV CHANNEL 24

হামলা ভাংচুরের ঘটনায় স্কুল কমিটির সংবাদ সম্মেলন বিদায়ের দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে খাবার তুলে দিতে পারিনি -অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক



হামলা ভাংচুরের ঘটনায় স্কুল কমিটির সংবাদ সম্মেলন বিদায়ের দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে খাবার তুলে দিতে পারিনি -অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

পাবনা ঈশ্বরদীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পন্ড করার ঘটনায় বিএনপির একাংশের নেতাদের নিয়ে 

সংবাদ সম্মেলন করেছে স্কুল পরিচালনা কমিটি, গতকাল বুধবার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান। 



তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট অনুমতি নিয়ে স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ও সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচী বাস্তবায়নে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। সেখানে পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে কেনো প্রধান অতিথি করা হয়নি-এমন প্রশ্ন তুলে হাবিব গ্রুপের বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, কৃষকদলের সদস্য সচিব মইনুল ইসলাম সরদার, আলম ওরফে দালাল আলম, মনিক্কার মিয়াসহ ১৫/২০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চ, প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিল, ভাংচুর করে, ব্যানার পুড়িয়ে দেয়। তারা কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অতিথিদের জন্য রান্না করা ডেগ ভর্তি খাবার ফেলে বিনষ্ট করে। তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পূর্বে ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে সর্বপ্রথম আমাকেই গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া বিগত ১৭ বছরে অসংখ্যবার গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছি, সেই আমিই ওই স্কুলে সভাপতি হওয়া স্বত্বেও বিএনপির হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে যা খুবই দুঃখজনক, আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। 



এ সময় স্কুলের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই স্কুলে শিক্ষকতা করে অবসর নিয়ে শেষ কর্মদিবসে স্কুলের পক্ষ থেকে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাতে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের লোকজন সাজানো গোছানো সে আয়োজন ভন্ডুল করে শুধু এলাকার সুনামই ক্ষুন্ন করেনি, স্কুলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবার নষ্ট করে দিয়েছে। স্কুল থেকে বিদায়ের দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে আমি খাবার তুলে দিতে পারিনি, আমাকে বিদায় জানাতে শিক্ষক, অভিভাবক, স্কুল পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষার্থীরা যেসব উপহার সামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন তার সবই স্কুলে পড়ে আছে, আমার হাতে তাদের ভালবসার উপহারও তুলে দিতে পারেনি। এই কষ্ট আমাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে স্কুলের বিদায়ী প্রধান শিক্ষক, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির একাংশের প্রস্তাবিত কমিটির আহবায়ক আব্দুর রশিদ সরদার, পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সোবহান, সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন সরদার, হুমায়ুন কবির দুলাল, মতিয়ার রহমান, মফিজ উদ্দিন মানিক, আবু তালেব ফকির, মুশফিকুর রহমান সজলসহ শতাধিক নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, উপজেলার জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল।


কিন্তু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অনুষ্ঠানের অতিথি না করায় তার অনুসারীরা মঙ্গলবার দুপুরে লাঠিসোটা নিয়ে স্কুলে হামলা ভাঙচুর চালিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করে দেয়।

TV CHANNEL 24

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


হামলা ভাংচুরের ঘটনায় স্কুল কমিটির সংবাদ সম্মেলন বিদায়ের দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে খাবার তুলে দিতে পারিনি -অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

পাবনা ঈশ্বরদীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পন্ড করার ঘটনায় বিএনপির একাংশের নেতাদের নিয়ে 

সংবাদ সম্মেলন করেছে স্কুল পরিচালনা কমিটি, গতকাল বুধবার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান। 



তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট অনুমতি নিয়ে স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ও সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচী বাস্তবায়নে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। সেখানে পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে কেনো প্রধান অতিথি করা হয়নি-এমন প্রশ্ন তুলে হাবিব গ্রুপের বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, কৃষকদলের সদস্য সচিব মইনুল ইসলাম সরদার, আলম ওরফে দালাল আলম, মনিক্কার মিয়াসহ ১৫/২০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চ, প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিল, ভাংচুর করে, ব্যানার পুড়িয়ে দেয়। তারা কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অতিথিদের জন্য রান্না করা ডেগ ভর্তি খাবার ফেলে বিনষ্ট করে। তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পূর্বে ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে সর্বপ্রথম আমাকেই গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া বিগত ১৭ বছরে অসংখ্যবার গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছি, সেই আমিই ওই স্কুলে সভাপতি হওয়া স্বত্বেও বিএনপির হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে যা খুবই দুঃখজনক, আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। 



এ সময় স্কুলের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই স্কুলে শিক্ষকতা করে অবসর নিয়ে শেষ কর্মদিবসে স্কুলের পক্ষ থেকে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাতে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের লোকজন সাজানো গোছানো সে আয়োজন ভন্ডুল করে শুধু এলাকার সুনামই ক্ষুন্ন করেনি, স্কুলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবার নষ্ট করে দিয়েছে। স্কুল থেকে বিদায়ের দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে আমি খাবার তুলে দিতে পারিনি, আমাকে বিদায় জানাতে শিক্ষক, অভিভাবক, স্কুল পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষার্থীরা যেসব উপহার সামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন তার সবই স্কুলে পড়ে আছে, আমার হাতে তাদের ভালবসার উপহারও তুলে দিতে পারেনি। এই কষ্ট আমাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে স্কুলের বিদায়ী প্রধান শিক্ষক, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির একাংশের প্রস্তাবিত কমিটির আহবায়ক আব্দুর রশিদ সরদার, পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সোবহান, সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন সরদার, হুমায়ুন কবির দুলাল, মতিয়ার রহমান, মফিজ উদ্দিন মানিক, আবু তালেব ফকির, মুশফিকুর রহমান সজলসহ শতাধিক নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, উপজেলার জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল।


কিন্তু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অনুষ্ঠানের অতিথি না করায় তার অনুসারীরা মঙ্গলবার দুপুরে লাঠিসোটা নিয়ে স্কুলে হামলা ভাঙচুর চালিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করে দেয়।


TV CHANNEL 24

সম্পাদক ও প্রকাশক:
তারান্নুম রিয়া মনি

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
হামলা ভাংচুরের ঘটনায় স্কুল কমিটির সংবাদ সম্মেলন বিদায়ের দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে খাবার তুলে দিতে পারিনি -অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
0:00 / 0:00
1x